ফরিদপুরের মধুখালীতে উপজেলার কোরকদি ইউনিয়নের বন্দর শংকরপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ডমোঃ আলম হোসেন মোল্যার বিরুদ্ধে জাল সনদে দীর্ঘ ৯ বছর চাকরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারী বিধি মোতাবেক ভোগ করেছেন সকল সুযোগ সুবিধা। এতে সরকারী অর্থ অপচয় হয়েছে। জাল সনদের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী ২০১৯খ্রি. ইসলামিক ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, তিনি ২০১৮ খ্রি. প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আলম হোসেন মোল্যার বাড়ী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে।সে দীর্ঘদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত বন্দর শংকরপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। লিখিত অভিযোগপত্রে দাবী করা হয়েছে তিনি কখনও কওমি মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগে লেখাপড়া না করেই জাল সনদ দাখিল করে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ লাভ করেন। লিখিত অভিযোপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৯ খ্রি.তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক সহকারী পরিচালক তার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তে বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়।
পুনরায় অভিযোগের ভিত্তিতে ২৮ এপ্রিল ২০২৬খ্রি.ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক গঠিত ৬ সদস্যের একটি তদন্ত বোর্ড অভিযুক্ত শিক্ষককের সনদ যাচাই বাছাই করেন। যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সোহরাব হোসেন। যাচাই বাছাই শেষে তদন্ত বোর্ড প্রতিবেদন দাখিল করেন। মোঃ আলম হোসেন মোল্যার জাল সনদের বিষয়ে সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বললে তারা বলেন সনদের বিষয়ে আমরা তদন্তকারী বোর্ড কে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
অভিযোগকারীদের দাবি জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারী চাকরির মাধ্যমে সরকারী অর্থ গ্রহন করেছেন। তার এই জালিয়াতীর কারনে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হোক।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আলম হোসেন মোল্যার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যে ব্যাক্তি অভিযোগ করেছেন তিনি সেই যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য,সেখানে আমি কতটুকু ন্যায়বিচার পেতে পারি।আমার সনদপত্র জাল না। আমার সনদে একই ব্যাক্তির একই রকমের স্বাক্ষর রয়েছে।অভিযোগকারীগণ কোথায় পেয়েছে একই ব্যাক্তির দুরকম স্বাক্ষরের সনদপত্র সেটা আমার জানা নাই।
আলম হোসেন মোল্লার কর্মরত মাদ্রাসার সভাপতি আকরাম হোসেন খান জানান, আলম হোসেনের সনদ সঠিক জেনে আমরা তাকে নিয়োগ দিয়েছি, তার বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নাই। উল্লেখ্য ৬ সদস্য বিশষ্ট সনদ যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মুফতি কামরুজ্জামান জানান অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আলম হোসেন মোল্যাকে তার কাগজপত্রসহ যাচাই বাছাই কমিটির সামনে তাকে হাজির করা হলে সনদীয় পাসের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে কোন বিষয়ে পড়েছেন সে বিষয়ে সঠিক উত্তর দিতে পারে নাই।
এই বক্তব্যকে আলম হোসেন মোল্লা চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন তিনি মিথ্যাচার করেছেন। শিক্ষক বলেন তিনি নিজেই ঐ আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিধি মোতাবেক তিনি যাচাই-বাছাই কমিটির অযোগ্য।
ফরিদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোঃ ইয়াসিন মোল্যা জানান, মোঃ আলম হোসেন মোল্যার বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দায়িত্ব চলমান থাকবে অধিকতর যাচাই বাছাইয়ের জন্য তার সনদ ও প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরন করা হবে।
মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান এ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আমাকে অবহিত করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।