গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন ভোটার নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে আসা একাধিক নাগরিক নির্বাচন অফিসের বিরুদ্ধে হয়রানি, অযৌক্তিক জটিলতা সৃষ্টি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইন জন্মনিবন্ধন, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব সনদ, বিদ্যুৎ বিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে তারা ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে অংশ নেন। তথ্য সংগ্রহকারী, যাচাইকারী ও শনাক্তকারীর অনুমোদনের পর ছবি ও আঙুলের ছাপও প্রদান করেন। তবে পরবর্তীতে তাদের অনেককে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে ডেকে পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অফিসে ডাকার পর কয়েকজন আবেদনকারীকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। তাদের দাবি, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাদের আবেদন সার্ভার থেকে বাতিল বা মুছে ফেলা হয়েছে।
বোড়াশী ও রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কয়েকজন আবেদনকারী জানান, তারা গত মার্চ মাসে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আঙুলের ছাপ প্রদান করেন। পরে নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করলে তাদের নানা জটিলতার কথা জানানো হয় এবং আবেদন প্রক্রিয়া আর অগ্রসর হয়নি বলে অভিযোগ করেন।
এক ভুক্তভোগী জানান, সব ধরনের বৈধ নথি জমা দেওয়ার পরও তার জন্মনিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিষ্পত্তির পরিবর্তে তাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো হয় এবং মানসিক চাপে রাখা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন অফিসকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ আবেদনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সেবা না পেলেও কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রকৃত নাগরিকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বর্তমান কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নতুন ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। অনেক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসুর কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সেগুলো অস্বীকার করেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর পুনঃপর্যালোচনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নতুন ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।