ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা কবির খানকে (৫৩) পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ (বুধবার ২২ এপ্রিল,২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচন্ডিপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার কবির খান চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি এবং ওই ইউনিয়নের চরসালেপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল দোহার থানা পুলিশের সহযোগিতায় হরিচন্ডিপুর গ্রামে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই পলাতক কবির খানকে কব্জায় নিতে সক্ষম হয় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মুন্সির চরবাজার এলাকা থেকে কবির খানকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এসআই রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে মোটরসাইকেলে তোলার চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে কবিরের স্বজন ও অনুসারীরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় এসআই রফিকুজ্জামান, এসআই মোজাম্মেল হক, এসআই কাজী রিপন, এএসআই সোহেল রানা ও কনস্টেবল উজ্জ্বল গুরুতর আহত হন। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা কবির খানকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ।
মঙ্গলবারই চরহরিরামপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে আলমগীর (২৫) নামে কবিরের এক সহযোগীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়।
চরভদ্রাসন থানার এসআই এনামুল হক খান দৈনিক বাঙ্গালী খবরকে বলেন, ”কবির খানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুটি মামলা ছিল। এখন পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।”
বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত অন্য আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে থানা প্রশাসন।