পহেলা বৈশাখ মানেই পান্তা-ইলিশের চিরাচরিত উৎসব। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী সরকারি আইনুদ্দিন কলেজে এবারের বৈশাখী আয়োজনে ঘটেছে ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত এক ঘটনা। শিক্ষার্থীদের জন্য পান্তা-ইলিশের পরিবর্তে পরিবেশন করা হয়েছে নামমাত্র মূল্যের ‘বাটা মাছ’। কলেজের পর্যাপ্ত তহবিল থাকা সত্ত্বেও এমন ‘কিপটামি’ এবং গোপনীয় আয়োজনে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকরা।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন , পহেলা বৈশাখ উদযাপনে কলেজের নিজস্ব ফান্ড থেকে বরাদ্দ থাকলেও পাতে ইলিশের দেখা মেলেনি। তার বদলে জনপ্রতি ১০০ টাকা কেজি দরের ছোট বাটা মাছ দিয়ে কোনোমতে ভোজনবিলাস শেষ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বৈশাখী উৎসবের নামে এই দায়সারা আয়োজন তাদের জন্য অপমানজনক। কলেজের ফান্ডের টাকা কোথায় গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ নাজমুল হক। অভিযোগ রয়েছে, ইতিপূর্বেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিশেষ সখ্যতা থাকায় তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। সম্প্রতি তিনি পদোন্নতি পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কলেজ থেকে তার বিদায় নেওয়ার কথা রয়েছে। বিদায়বেলায় এই ধরনের একটি বিতর্কিত আয়োজন কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একজন কর্মকর্তা জানান, “বাজারে ইলিশের দাম অতিরিক্ত হওয়ায় আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প হিসেবে বাটা মাছের ব্যবস্থা করেছি।” তবে পর্যাপ্ত বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেন ইলিশ কেনা সম্ভব হলো না, সে বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অধ্যক্ষ নাজমুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সাংবাদিকদের এড়াতে তিনি কৌশলী ভূমিকা নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উচ্চপদস্থ পদে পদোন্নতি পেয়ে বিদায় নেওয়ার প্রাক্কালে একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে এখন পুরো ফরিদপুর জেলা জুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা দাবি করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।