ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী নারী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল মোল্যা গত কয়েকদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। সর্বশেষ গত সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ঘরের জানালার পাশে টিনের বেড়া সরিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং তাকে ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে গেট খুলে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
ভুক্তভোগী আরও জানান, ঘটনার আগে একই দিন বিকেলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার বাড়িতে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। পরিস্থিতির আশঙ্কা থেকে তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে ভাসুরদের অবহিত করেন।
তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বারবার কু-প্রস্তাব দিয়ে আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে, ভুক্তভোগীর ভাসুর মুন্নু শেখ জানান, পূর্ব থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন তিনি। ঘটনার রাতে ইউপি সদস্য বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তিনি তাকে আটক করেন। এসময় উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যাতে দুজনই আহত হন।
তিনি বলেন,আত্মরক্ষার্থে আমরা তাকে প্রতিহত করি। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত তা মানতে অস্বীকৃতি জানান।
ময়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক মৃধা বলেন, দুই পক্ষই তাদের নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে পূর্বেও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে একটি পরিবারের সঙ্গে তার বিতর্কিত সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় আলোচিত হয়েছিল।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. বিল্লাল মোল্যা বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে আইনের যে সিদ্ধান্ত হবে তা মেনে নেব। তবে আমাকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান,
লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।