গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে শশুরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত আপন মেযে়র জামাই রফিকুল ওরফে রফিক সরদার (২৬) কে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থ জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেছেন গোপালগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শামছুল হক।
রায় পড়ে শোনানোর সময় আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরন করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বেথুড়ী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের জোতকুরা গ্রামের সিরাজ সরদারের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাজী আবুল খাযে়র।
গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে গোপালগঞ্জ দায়রা জজ আদালতে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: হাফিজুর রহমান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামী রফিকুল ওরফে রফিক সরদার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার রাজপাট ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস শেখের মেযে় নিলুফা বেগম (২১) কে বিগত ২০২৩ সালের ২২ মার্চ কাবিন রেজিস্ট্রি মূলে বিবাহ করেন। বিয়ের পর আসামি রফিকুল ওরফে রফিক সরদার যৌতুকের দাবিতে তার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে স্ত্রী নিলুফা বেগম যৌতুক নিরোধ আইনের-০৩ ধারায় স্বামী রফিকুলের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জে একটি সি.আর মামলা দাযে়র করেন যার নং – ৫৭২/২৩.০৯.২৪ ইং।
আসামি রফিকুল ওরফে রফিক সরদার মামলার বিষয় জেনে বিগত ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর তারিখে মীমাংসার কথা বলে শ্বশুর বাডি়তে গিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে স্ত্রী নিলুফা বেগমের হাত ধরে টানাটানি করলে শ্বশুর কুদ্দুস শেখ বিনা যৌতুকে নিলুফাকে শ্বশুর বাডি়তে ফিরিযে় নেওয়ার প্রস্তাব করেন। কিন্তু ওই প্রস্তাবে ক্ষিপ্ত হয়ে নিলুফাকে বাড়ীতে না নিয়ে ফিরে যায় রফিক সরদার। পরের দিন ০৫ নভেম্বর ভোর আনুমানিক পৌনে ৬ টার দিকে নিজের বাডি় থেকে কুদ্দুস শেখ ফজরের নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে কামাল শেখের ঘেরের সামনে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জামাতা রফিকুল ওরফে রফিক সরদারসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জন হামলা চালায়। তারা কুদ্দুস শেখকে কুপিযে় রক্তাক্ত জখম করে। কুদ্দুছের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা সেখানে পৌঁছানোর পর গুরুতর আহত কুদ্দুস শেখকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেযে়র জামাই রফিকুল ওরফে রফিক সরদারসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জন ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়েছে বলে মৃত্যুর পূর্বে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন কুদ্দুছ শেখ।
পরে পুলিশ নিহত কুদ্দুস শেখের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে।
কুদ্দুছ শেখ হত্যার ঘটনায় স্ত্রী রাহেলা বেগম বিগত ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর তারিখে কাশিয়ানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর কাশিয়ানী জি.আর- ১৮৬/২০২৪ (পেনাল কোডের ৩০২ ধারা) যা পরবর্তীতে সেশন ৩৮০/২০২৫ কোর্টে বদল হয়।
বিজ্ঞ বিচারিক আদালত যথাযথ স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি রফিকুল ওরফে রফিক সরদারকে সাজা প্রদান করেন।