দেশের প্রখ্যাত স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আবাসন দখল ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ফরিদপুরের এক বিধবা নারী।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডা. দীন মোহাম্মদ ও তাঁর ভাই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের পৈতৃক ভবন দখলের চেষ্টা করছেন এবং অর্ধকোটি টাকার বেশি পাওনা পরিশোধ করছেন না।
আজ (২২ এপ্রিল বুধবার, ২০২৬) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন শহরের গুহলক্ষীপুর এলাকার মৃত শামসুদ্দিন কোরাইসীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম। এসময় তাঁর দুই মেয়ে ও নাতিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে কান্নায় ভেঙে পড়ে রোকেয়া বেগম বলেন, জেলা শহরের জনতা মোড় এলাকায় তাঁদের মালিকানাধীন ‘শামসুদ্দিন টাওয়ার’ নামক ১১ তলা ভবনটির ৩য় থেকে ৮ম তলা পর্যন্ত দুই যুগ আগে ক্রয় করেন ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ ও তাঁর ভাই কাজী আনছার উদ্দিন শহীদ। অভিযোগ রয়েছে, ক্রয়ের পর থেকেই ডা. দীন মোহাম্মদ তাঁর চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ’র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুরো ভবনটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন।
রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, “ভবনের লিফট, জেনারেটর, পাওয়ার ফ্যাক্টর ও সার্ভিস চার্জ বাবদ ডা. কাজী দীন মোহাম্মদের কাছে আমাদের ৫৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই টাকা চাইলে তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তা দিচ্ছেন না। উল্টো এখন আমাদের ও আমার দুই মেয়েকে ভবন থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দিচ্ছেন।” স্মৃতিচারণ করে ক্ষোভের সাথে এই বৃদ্ধা বলেন, “উনাকেই (ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ) আমার স্বামী একসময় পড়াশোনা করিয়েছেন। এমনকি উনাদের পৈতৃক বাড়ি যখন নিলামে উঠেছিল, আমার স্বামী টাকা দিয়ে সেই নিলাম ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। আজ বড় ডাক্তার হয়ে তিনি সেই উপকারের কথা ভুলে গেছেন। এখন আমার স্বামীর সন্তানদেরই তিনি রাস্তায় তাড়িয়ে দিচ্ছেন।”
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বর্তমানে ওই ভবনে তাঁদের প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং পাওনা টাকা চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও বিচার প্রার্থনা করেছেন।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তাঁর ছোট ভাই কাজী আনছার উদ্দিন শহীদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বিসিপিএস-এর সাবেক সভাপতি ছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকদের আন্দোলনের মুখে তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
ফরিদপুরের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় সুধীমহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে।