বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানব পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন ভুক্তভোগীরা। আজ (মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ফরিদপুরের চিহ্নিত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে সর্বস্বান্ত করছে। মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে ইমরান কাজী, শারমিন কাজী, ইলিয়াস কাজী (ছোট তাই) এবং তাদের পিতা মিলু কাজীর নাম উল্লেখ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই চক্রটি অন্তত ৮০ থেকে ১০০টি পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। শুধু অর্থ আত্মসাৎই নয়, ভুয়া ভিসা ও জাল কাগজপত্র দিয়ে মানুষকে বিদেশে পাঠানোর নাম করে আটকে রাখা এবং নির্যাতনের মতো ভয়ংকর অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
বন্দিদশা থেকে ফেরা সাত ভুক্তভোগীর লোমহর্ষক বর্ণনা
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাতজন ভুক্তভোগী তাদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
তারা জানান, চক্রটি তাদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বন্দি করে রাখে। কোনো কাজের ব্যবস্থা না করে উল্টো অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। পরবর্তীতে অনেক প্রতিকূলতা পার করে এবং নানা কষ্টে দেশে ফিরে এসে তারা এই প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের কাছে চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন- অভিযুক্ত ইমরান কাজী ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার। তাদের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা সকল অর্থ ফেরত দেওয়া। মানব পাচার চক্রের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক ভুক্তভোগী মা বলেন, ”আমরা জমি-জমা বিক্রি করে সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়েছিলাম একটু সুখের আশায়। কিন্তু তারা আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। আমরা বিচার চাই, আমাদের কষ্টের টাকা ফেরত চাই।”
মানববন্ধন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি এই অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, যদি এই চক্রটিকে এখনই থামানো না যায়, তবে আরও অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে।