ফরিদপুর জেলা জুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের অভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ফসল উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন মাঠে নেমেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি বা তেল মজুত করে রাখার অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকটি পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাম্পগুলোতে নজরদারি জোরদার করেছে।
জেলায় প্রায় ৪০টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে অধিকাংশই বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ভিড় সামাল দিতে অনেক স্থানে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। লাইনে দাঁড়ানো মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার সকাল ১০টা থেকে শহরের জোবাইদা ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হলে সেখানে গ্রাহকদের চাপ বেড়ে যায়। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এবং মজুদ থাকা সাপেক্ষে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদামতো তেল পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেখানে আসা গ্রাহকরা। তারা জানান, জেলার অন্যান্য ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়ায় ভোগান্তি বাড়লেও এই পাম্পে পর্যাপ্ত তেল পাওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন।
জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। খোলা থাকা অল্প কয়েকটি পাম্পে তেল নিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ডিজেলের অভাবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেকেই জানিয়েছেন, তেল না পাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে পারছেন না, ফলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের মতে, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে জেলার কৃষি ও অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।