ফরিদপুরের মধুখালীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চরম অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবায় অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সিজারের আগেই মাতৃগর্ভে এক নবজাতকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ‘কবিতা ক্লিনিক’-এর মালিক কবিতাকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আজ (রোববার,১ নভেম্বর) মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত উক্ত ক্লিনিকে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী জেলার কালারহাট গ্রামের বাসিন্দা আরিফ পাটোয়ারীর প্রসূতি স্ত্রী শান্তা বেগমকে সিজারের জন্য রোববার সকাল ৭টার দিকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র কিংবা উপস্থিতি ছাড়াই ক্লিনিকের এক নার্স প্রসূতিকে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি শুরু হয়।
দিন গড়িয়ে বিকেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শাহিন সিজারের পূর্বে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জানান যে, মায়ের গর্ভেই নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের এই বক্তব্যের পর পরই ক্লিনিক চত্বরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শত শত স্থানীয় জনতা ও রোগীর স্বজনেরা ক্ষোভে ফেড়ে পড়েন। এ সময় ক্লিনিক এলাকায় তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তদন্তে ক্লিনিকে চরম অব্যবস্থাপনা, মানসম্মত চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সের ঘাটতি এবং নিবন্ধিত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই রোগীকে ইনজেকশন দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধের সত্যতা পাওয়া যায়।
এ সব অপরাধ আমলে নিয়ে ‘১৯৮২ সালের মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী ক্লিনিকের মালিক কবিতাকে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অন্যান্য সকল রোগীকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, মধুখালী উপজেলায় অবৈধ ও অনিয়মসর্বস্ব ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরণের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চিকিৎসকদের পেশাদার দায়িত্বহীনতা ও অবৈধ ক্লিনিক মালিকের এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।