ভুক্তভোগী আদিবাসী ঋষি সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী নেতা সোনা মিয়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ও তার ভাই তরিকুল ইসলামসহ এই আওয়ামী পরিবার আমাদের জায়গা দখল করে বাড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। তারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জায়গা দখল করে নিয়েছে।
অসুস্থ নিখিল ঋষি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, হামার জমিনে হামারে তাড়ায়। তিনি বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষের মালিকানাধীন পশ্চিম গাড়াখোলা মৌজার ৪৩৭ ও ৪৩৯ হাল দাগের ৭৮ শতাংশ জমি যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা, এই জমিতে আমরা বংশ পরস্পরাই শত বছর ধরে বসবাস করে আসছি, স্বাধীনতাত্তোর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মৃত আজিম উদ্দিন শেখ আমাদের জমিতে একটি জাল দলিল দেখিয়ে জোরপূর্বক ঘর তুলে বসবাস করে।তখন মাত্র দুই তিন শতাংশ জমির মালিকানাধীন দাবি করলেও পরবর্তীতে আমাদের মোট সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে।
তিনি আরো বলেন আমার বাবার জেঠি ময়না ঋষিকে নিঃসন্তান দেখিয়ে জাল দলিল করেছে, অথচ ময়না ঋষির দুই মেয়ে রয়েছে, আমরা ঐ দলিল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছি, শুধু জাল দলিল নয় বিভিন্ন সময় আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং আমাদেরকে ভয়-ভীতি দেখায়, আওয়ামী লীগ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আমাদেরকে মেরে রক্তাক্ত জখম করে একাধিকবার উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেছে, আমাদের বসতবাড়ির চারপাশে ঘিরে আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে, এমনকি আমাদের খাবার পানির জন্য টিউবয়েল দিতে গেলে বাধা সৃষ্টি করে, আমাদের বসতবাড়ি উপর দিয়ে ময়লা পানি ও আবর্জনা ফেলে জলাবদ্ধতা তৈরি করেছে, বর্তমানে আমরা মানবতার জীবন যাপন করছি।
আদিবাসীরা জানান পাকিস্তান আমলের আমাদের বসতবাড়ির টিনের ঘর ভেঙ্গেচুরে মাটিতে মিশে যাচ্ছে, প্রচন্ড বৃষ্টিও ঝড়ের সময় ঘর দিয়ে জল পড়ে। আমরা ঘর তুলতে গেলে বাধা সৃষ্টিসহ মারধর করে, বর্তমানে আমরা আদিবাসী ঋষি সম্প্রদায় জীবনের ঝুঁকির মধ্যে আছি, যে কোন সময় আমাদেরকে মেরে ফেলতে পারে।
স্থানীয় মধুখালী বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী ও ঋষি সম্প্রদায়ের প্রতিবেশী মো.লিয়াকত বিশ্বাস জানান আমরা ছোটকাল থেকেই আমাদের বাপ চাচাদের মুখে জেনে আসছি। এই সম্পত্তির মালিক গৌড় ঋষি ও ময়না ঋষি, আওয়ামী লীগের একটি পরিবার বিভিন্ন সময় ঋষিদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে।
অভিযুক্ত আবুল কাশেম (সোনা) এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন গৌড় ঋষির ছেলে সুনীল ঋষি আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তিনি মালিকানা দাবী করে বলেন আমাদের দলিল আছে, তবে তার পিতা ঋষি সম্প্রদায়ের নিকট থেকে জমি ক্রয় করেছেন এমন কাগজ পত্র তিনি দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি এরফানুর রহমান বলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান, তিনি বলেন আদালতই সিদ্ধান্ত দিবেন, চলাচলের পথ বন্ধের বিষয়ে বলেন স্থায়ী প্রাচীর নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছি, তারা যাতে চলাচল করতে পারে আমরা সে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।