দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভিক্ষা করে জমানো ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত চাইতে গেলে এক বৃদ্ধাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
বুধবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব অভিযোগ করেন শিরিয়া বেগম (৬৫)। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের মীরেরগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে গত পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছেন। তিন দিন আগে তার বসতঘর থেকে জমানো সব টাকা চুরি হয় বলে তিনি জানান।
শিরিয়া বেগমের স্বামী রাশেদ খান প্রায় ৪০ বছর আগে মারা যান। এরপর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে জীবনসংগ্রামে নামেন তিনি। ফেরিওয়ালা হিসেবে কাপড় বিক্রি করে মেয়ের বিয়ে দিলেও বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে ছয় বছর আগে সেই পেশা ছাড়তে বাধ্য হন। পরে ভূমিহীন হয়ে আশ্রয় নেন গুচ্ছগ্রামে এবং জীবিকার তাগিদে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন। ভিক্ষা করে জমানো টাকাগুলো তিনি নিজের চৌকির তোশকের নিচে ও ঘরের এক কোণে রেখে দিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রতিবেশী মন্ডল নামের এক ব্যক্তি ওই টাকা চুরি করেছেন। অভিযুক্ত মন্ডল কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা এবং গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা কোমেলা বেগমের ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগও রয়েছে। শিরিয়া বেগমের দাবি, প্রতিদিন রাতে মন্ডলের ঘরে মাদক ও জুয়ার আড্ডা বসে, যেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন অংশ নেয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এই টাকা ভেঙে ভেঙে খাইতাম, ওষুধ কিনতাম। পাঁচ-ছয় বছর ধরে মানুষের কাছে হাত পেতে টাকা জমাইছি। একদিনে এই টাকা জড়ো করি নাই। সব টাকা হারাইয়া আমি শেষ।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা চাইতে গেলে মন্ডল ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। তার ভাষ্যমতে, মন্ডলের সহযোগী উজ্জ্বল নামের এক ব্যক্তি তাকে বেধরকভাবে মারধর করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মন্ডল ও উজ্জ্বলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’