ফরিদপুরের মধুখালীতে সাংবাদিক এনামুল খন্দকারের উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক নয়া দিগন্তের উপজেলা প্রতিনিধি। হামলার ঘটনায় তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে মধুখালী পৌরসভার মুজাফফর ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে গেলে তার উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও সাংবাদিক মেহেদী হাসান পলাশ তার ভাগ্নে ও সহযোগীদের নিয়ে এই হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনামুল খন্দকার ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পলাশ ও তার সহযোগীরা পিছন থেকে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। হামলার সময় তার মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়।
এনামুল খন্দকারের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর শেখ জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পলাশের হাতে ধারালো অস্ত্র দেখতে পান এবং তার সহযোগীদের এনামুল খন্দকারকে মারধর করতে দেখেন। তিনি আহত এনামুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী পলাশকে গ্রেফতার করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মধুখালী থানাকে অবহিত করা হয়েছে।”
আহত সাংবাদিক এনামুল খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।