বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ফসল পাটকে নতুনভাবে কাজে লাগিয়ে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গড়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব একটি শিল্প উদ্যোগ। তরুণ উদ্যোক্তার হাত ধরে পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা, বাড়ছে কর্মসংস্থান।
সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রঘুয়ার কান্দি গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল নিজ বাড়িতে স্থাপন করেছেন পাটজাত পণ্য উৎপাদনের একটি ছোট কারখানা। সেখানে আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে পাটের ব্যাগ, শপিং ব্যাগ, অফিস ব্যাগ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য লোগো সংবলিত প্যাকেজিং ব্যাগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, চালের দোকান, মুদি ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে আগ্রহী হচ্ছে। এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্যোক্তা সোহেল। উৎপাদিত পণ্যগুলো সালথা বাজারে তার নিজস্ব দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন উপজেলাতেও এসব পণ্যের সরবরাহ বাড়ছে।
উদ্যোক্তা সোহেল বলেন, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, শুরুটা ছোট হলেও ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়িয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে এই কারখানায় কয়েকজন স্থানীয় যুবক কাজ করছেন। এতে এলাকার বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তার আশা, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে এখানে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান সম্ভব হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ পেলে সালথার এই পাটভিত্তিক শিল্প আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাদের ধারণা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পণ্য স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে বৃহত্তর বাজারেও পরিচিতি পাবে।
সালথা উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি। তরুণ উদ্যোক্তার এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাট উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, পাট একটি সম্ভাবনাময় ফসল। কাঁচামাল উৎপাদনের পাশাপাশি পাটজাত পণ্য তৈরি ও বিপণনে গুরুত্ব বাড়াতে পারলে কৃষক ও উদ্যোক্তা উভয়ই লাভবান হবেন।
পরিবেশ রক্ষা, স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান—এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণে সালথার এই পাটভিত্তিক শিল্প উদ্যোগ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।