গোপালগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জের ধরে উলপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সন্ত্রাসী অন্তর ও তার লোকজন কর্তৃক গত ববুধবার সকালে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস মোড় এলাকায় সংঘটিত হামলার ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।
ওই ঘটনার পর অন্তরকে আহত দেখিয়ে অন্তরের চাচা এবং উলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও উলপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার তরিকুল মোল্লা বাদী হয়ে সদর থানায় দায়ের করা মামলায় গোপালগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও গোপালগঞ্জ পৌরসভার সাবেক ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এম মাহবুব আলী সোহেলকে পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে গত বৃহস্পতিবার।
একটি সূত্র জানিয়েছে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা মামলা দায়ের করার আগেই বিএনপি নেতা সোহেলকে আটক করা হয়। সোহেল মামলার দুই নাম্বার আসামি।
এ মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এমএইচ খান মঞ্জুকে।
জানা গেছে, সন্ত্রাসী অন্তর বাহীনির হামলায় গত ২৬ আগস্ট শিবলী নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে একাধিক স্থানে হাড়কাটা জখম করা হয়। এসময় তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। স্থানীয়রা আহত শিবলীকে উদ্ধার করে শহরের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।
পরে পুলিশ শিবলীকে আটক করে ক্লিনিক থেকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে উন্নত চিকিৎসার জন্য । হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুক্রবার সকালে জানিয়েছে শিবলীর অবস্থা আশংকাজনক।
এদিকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর বিএনপি নেতা সোহেলের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন ওই ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। সোহেল তখন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা.কেএম বাবরের বাসায় ছিলেন। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন হীরা,জেলা যুবদল সভাপতি রিয়াজুদ্দিন লিপটন, সাধারন সম্পাদক রাসেকুজ্জামান পলাশসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাও এমনটাই বলেছেন। সংসদ সদস্য বাবরের বাসা থেকে বেরোনোর পর সোহেলকে বারোটার দিকে অন্যত্র থেকে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নেয়া হয়।
সংঘর্ষের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি ( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) গনমাধ্যমকে জানান,অন্তর ও তার লোকজন শিবলীর উপর হামলা চালালে আমি কয়েকজনকে নিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করি। তবে শিবলীকে রক্ষা করতে যাওয়ার আগেই তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে অন্তরবাহিনী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ওই হামলার সময় সেখানে এমএইচ খান মঞ্জু, বিএনপি নেতা সোহেল,গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও সাংবাদিক মো: মাহমুদ কবির,ইফতি, ইভান, ইকরাম মিনা,রিদয় ফকির,ইমন বা অন্য কাউকে দেখা যায়নি। আমি শিবলীকে রক্ষা করতে ব্যস্ত ছিলাম।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান অন্তর, মাহাফুজ মোল্লাসহ কয়েজন শিবলীকে কোপানোর সময় অন্তরের ডান হাতের কনুইয়ে ছ্যানের কোপ লাগে। অন্তর ওই কোপের ফলে আহত হয়।
জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাংবাদিক মো: মাহমুদ কবির আলী বলেন, আমি ঘটনার সময় ব্যবসায়িক কারনে শহরের পোষ্ট অফিস এলাকায় একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজে ব্যস্ত ছিলাম। শুনেছি শিবলী ঘটনার সময় পল্লী বিদ্যুৎ মোড় পেরিয়ে উলপুর যাচ্ছিলো। তার উপর সন্ত্রাসী অন্তর, মাহাফুজ মোল্লাসহ আরও কয়েকজন পল্লী বিদ্যুৎ মোড় এলাকায় পূর্ব হতে প্রস্তুতি নিয়ে হামলায় চালায়। তারা শিবলীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। এ মামলায় আমাকে বা অন্যান্য নিরাপরাধ ব্যাক্তিদের আসামী করা হয়েছে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমুলক ভাবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এদিকে, মামলায় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত একাধিক নেতা-কর্মীদের নাম আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাদী তরিকুল ইসলাম মোল্লা উলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও জনপ্রতিনিধি হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।