জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাদ্রাসা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কাজী আবু ছায়েম। উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত বাছাই কমিটি তাকে এ সম্মাননা প্রদান করে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সূচক অনুযায়ী অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়। এতে অধ্যক্ষ কাজী আবু ছায়েমের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দীর্ঘ শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, পেশাগত নিষ্ঠা ও চারিত্রিক দৃঢ়তাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে তার ভূমিকা, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনা, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, গবেষণা কার্যক্রম এবং সৃজনশীল লেখালেখিতে তার অবদান এই স্বীকৃতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কমিটির সদস্যরা আরও জানান, পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা, সততা ও প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় অধ্যক্ষ কাজী আবু ছায়েমের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ, সহযোগিতামূলক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রতিক্রিয়ায় অধ্যক্ষ কাজী আবু ছায়েম বলেন,
“এই সম্মান আমার একার নয়। এটি আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত সাফল্য। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মান উন্নয়নে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”
এই অর্জনে ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান, শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক (আবুল খায়ের) এবং শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী (মাহমুদুল হাসান)—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জন করেছে ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। গর্বের বিষয় হলো, এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মোট সপ্তমবারের মতো এই সম্মাননা লাভ করল।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা গঠনে নিরলস পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের জন্য জনাব আবু সায়েব মোল্লার ভূমিকাও বিশেষভাবে প্রশংসিত। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে।
এই অর্জন সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আগামীতেও ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা।