ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৪৪নং রাংগারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে রোববার (৪ জানুয়ারি) সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাঙ্গারদিয়া গ্রামে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। বিদ্যালয় চত্বরে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নান্নু মাতুব্বরের সমর্থকরা প্রথমে বাদশা মোল্যা ও তার স্ত্রীকে মারধর করে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং নান্নুর সমর্থকরা প্রতিপক্ষের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাদ্দাম হোসেন (৪), জসীম (৩২), খলিল (৪৫), রবিয়া বেগম (৫০), খোকন মোল্লা (৫৫), সুমন মোল্লা (২৩) প্রমুখ। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত সুমন মোল্লার ভাই মো. আজিজুর হোসেন অভিযোগ করেন, “আমার ভাই মাঠে কাজ করছিল। এ সময় নান্নু ও মনুসহ ৮-১০ জন এসে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। সে অচেতন হয়ে গেলে তারা মৃত ভেবে চলে যায়।”
তিনি আরও বলেন, ইউপি সদস্য নান্নু অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়ে আসছেন এবং বর্তমানে বিএনপি নেতা মো. জয়নাল প্রভাষকের সঙ্গে থাকা অবস্থায় আবারও তাদের ওপর তাণ্ডব চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য নান্নুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। মো. জয়নাল প্রভাষক জানান, “এ ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় চত্বরে ৭-৮টি মেহগনি গাছ কাটার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনার পরপরই রবিবারের সহিংসতা শুরু হয়।