মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল, সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় কোটালীপাড়া উপজেলা ও পৌরসভার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী। তিনি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর আগে কোটালীপাড়াকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন লোহারভিটা মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল জলিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোটালীপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, কোটালীপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ইউসুফ আলী দাড়িয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওলিয়ার রহমান হাওলাদার।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল অহিদ মানসুর, মুহতামিম, সানমার মডেল মাদ্রাসা এবং মাওলানা রিয়াজুল ইসলাম।সহ বিভিন্ন মাদ্রাসা ও মসজিদ মুহতামিম ও ইমাম গণ
বক্তারা বলেন, একটি সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে হলে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা নিয়মিত খুতবা, ওয়াজ ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে পারেন।
তারা আরও বলেন, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এর প্রভাব পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও পড়ে। তাই অভিভাবক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হাফেজ রুহুল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল, গোপালগঞ্জ জেলা শাখা।
সভায় কোটালীপাড়া উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, তরুণদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।