অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে গাভী পালন করে আসছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কৃষক উৎসব বাইন। পাঁচটি দুধেল গাভীকে ঘিরেই ছিল তার পরিবারের আয়ের বড় ভরসা। তবে গভীর রাতে আগুনের ঘটনায় সেই অবলম্বনটুকুও হারিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বড় ডুমুরিয়া গ্রামে উৎসব বাইনের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে থাকার সময় গোয়ালঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক ফ্যানের শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের শুরু। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন গোয়ালঘরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে সবকিছু শেষ হয়ে যায়। গোয়ালঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা পাঁচটি গাভীর মৃত্যু হয়।
গাভীগুলো হারিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক উৎসব বাইন। তার পরিবারের নিয়মিত আয়ের অন্যতম উৎস ছিল এসব গবাদিপশু। হঠাৎ এমন ক্ষতিতে পরিবারটির মধ্যে নেমে এসেছে হতাশা।
উৎসব বাইন জানান, অনেক বছর ধরে কষ্ট করে গাভীগুলো পালন করেছেন তিনি। নিজের সঞ্চয় ও শ্রম দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিলেন ছোট পরিসরের গরুর খামার। গাভীগুলো থেকেই পরিবারের খরচ চালানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা সঞ্চয়ের আশা ছিল তার।
তিনি বলেন, রাতের আগুনে একসঙ্গে পাঁচটি গাভী হারিয়ে এখন তিনি চরম সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সবকিছু এক রাতেই শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে সামনে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পরিবারটি তাদের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছে। পুনরায় গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে পরিবারের আয়ের পথটি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা চান তারা।