ফরিদপুরের মধুখালীতে সিজারিয়ান অপারেশনের পর কবিতা বিশ্বাস (প্রসূতি) নামে এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক ডা. মঈনুল ইসলাম শাহিনের বিরুদ্ধে। আজ দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে এ ঘটনায় মৃতের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুখালী পৌরসভার উপশম ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি হন কবিতা বিশ্বাস। তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মঈনুল ইসলাম শাহিন। গত ১১ অক্টোবর রোববার তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরিবারের দাবি, অপারেশনের প্রায় ১০ মিনিট পরই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ফরিদপুর সাউথান হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কবিতা বিশ্বাসের মৃত্যুর পর স্বজনেরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, অপারেশনের পরপরই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে চিকিৎসায় অবহেলা ছিল কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা, চিকিৎসকদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ জরুরি।
এদিকে, ঘটনার পর চিকিৎসক ও পরিবারের মধ্যে আর্থিক সমঝোতা হয়েছে বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মধুখালীর উপশম ক্লিনিকে গিয়ে ডা. মঈনুল ইসলাম শাহিনকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। তাঁর মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া নবজাতক পুত্রসন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাবা কানাই বিশ্বাস। সদ্যোজাত সন্তানকে মায়ের স্নেহ ছাড়াই বড় করার দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার। একদিকে স্ত্রীকে হারানোর শোক, অন্যদিকে নবজাতকের লালন-পালন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি পরিবারটি।
কবিতা বিশ্বাসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং অভিযোগের সত্যতা থাকলে এর দায় কার—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
তাঁদের মতে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি যাচাই, অপারেশন-পরবর্তী চিকিৎসার বিবরণ পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।