রাজধানীর উত্তরার একটি নির্মাণাধীন প্লটে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার ঘটনায় প্রায় ১৫ টন রডসহ নির্মাণসামগ্রী নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে অসহযোগিতামূলক আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আনিছুর রহমান ।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের ক্যাপিটাল মার্কেটে জার্নালিস্ট ফোরামের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মো. আনিছুর রহমান। এ সময় নরসিংদী জেলা সমিতি, ঢাকার সহসভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান ও শিল্পী রিসান উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আনিছুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে পাশের একটি ভবনের দারোয়ান তাকে ফোন করে জানান, তার নির্মাণাধীন প্লটে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। খবর পেয়ে তিনি প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, প্লটে রাখা প্রায় ১৪ থেকে ১৫ টন রড, তিনটি মিক্সচার মেশিনসহ নির্মাণসামগ্রী নিলামে বিক্রি করা হয়েছে এবং ট্রাকে করে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, পরে সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তা ফিরিয়ে দেন।
আনিছুর রহমানের দাবি, তিনি মশার লার্ভার দায়ে নির্ধারিত জরিমানা দিতে সম্মত ছিলেন। তবে কেন তার নির্মাণসামগ্রী নিলামে বিক্রি করা হলো, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের বিরুদ্ধে কথা বলার অভিযোগ তুলে সাত বছরের কারাদণ্ডের হুমকি দেন এবং পুলিশ ডাকতে বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, ঈদুল আজহার পর নির্মাণকাজের জন্য প্লটে প্রায় ১৫ টন রড, তিনটি মিক্সচার মেশিন এবং বোরিংয়ের সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর করা মানি রিসিটের মাধ্যমে এসব মালামাল অন্য ব্যক্তিদের কাছে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনার বিচার, নিলামে বিক্রি হওয়া মালামাল ফেরত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান বা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্নশীল কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।