ফরিদপুরের মধুখালীতে কোমলমতি ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নকারী শিক্ষক আক্কাস আলীর অপরাধ আড়াল করতে এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতিকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সাথে দুই চাঁদাবাজ ও ভুয়া সাংবাদিক এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের রেলগেটস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌর জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক মোঃ নূরনবী মিয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, উপজেলার রইছন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনকারী শিক্ষক আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে সংবাদ না করার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য।”
তিনি আরও জানান, ‘শুকতারা মোবাইল টিভি’র জুয়েল শরীফ এবং ‘এসএ টিভি’র ভুয়া পরিচয়ধারী রকিবুল ইসলাম মিঠু নামের দুই চাঁদাবাজ ও ভুয়া সাংবাদিক এই অপপ্রচার চালিয়েছে। এমনকি একজন ভাড়াটিয়া নারীকে ক্যামেরার সামনে এনে আপত্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করানো হয়েছে। তবে ওই বিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রী বা অভিভাবক অভিযুক্ত শিক্ষক আক্কাস আলীর পক্ষে অবস্থান নেয়নি, বরং তাঁর বিরুদ্ধে আনীত ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং ভাইরালে ভিডিওর মাধ্যমে তাঁর আসল চরিত্র ইতিমধ্যে জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, অভিযুক্ত এই দুই ভুয়া সাংবাদিক জুয়েল ও মিঠুর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এই কারণে পূর্বে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে এক যৌথ সভার মাধ্যমে মধুখালী প্রেসক্লাব ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সকল গণমাধ্যমকর্মী মিলে তাদের দুজনকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিলেন। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই দুই চাঁদাবাজ ইতিপূর্বেও বিভিন্ন স্থানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গণধোলাই খেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান সরদার বলেন,”শিক্ষক আক্কাস আলী নিজের ঘৃণ্য অপরাধ ঢাকতেই এই দুই চাঁদাবাজ সাংবাদিককে দিয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়েছেন। কোমলমতি মেয়ে শিক্ষার্থীদের যৌন হেনস্থা করার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি এখন বাঁচার পথ খুঁজছেন। আমার বিরুদ্ধে টাকা দাবি করার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা হাস্যকর, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার ব্যক্তিগত তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। আমি এখনো কোনো সংবাদ প্রকাশই করিনি।”
তিনি আরও বলেন, অর্থের বিনিময়ে একজন ভাড়াটিয়া নারীকে দিয়ে যে নোংরা ও আপত্তিকর মন্তব্য করানো হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মধুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনামুল খন্দকার। তিনি অবিলম্বে এই চাঁদাবাজ চক্র ও অপরাধী শিক্ষককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়া সহ-সভাপতি রিহাদ মোল্লা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এই অপসাংবাদিকদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহ-সভাপতি মৃধা রকিবুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সেতু , সহ-সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম বকসী, মুক্তার হোসেন, সুমন আজিম এবং নাঈম শেখ (নির্বাহী সদস্য) সহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ।
বক্তারা অনতিবিলম্বে যৌন নিপীড়ক শিক্ষক আক্কাস আলী, ভুয়া সাংবাদিক জুয়েল ও মিঠু এবং তাদের সহযোগী ভাড়াটিয়া নারীকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।