ফরিদপুরে একটি কলেজের প্রধান ফটকের সামনের ময়লার স্তূপ থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ (সোমবার ১৫ জুন) বিকেলে জেলা সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের কানাইপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটক সংলগ্ন ডাস্টবিন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া নবজাতকটির গর্ভকালীন বয়স আনুমানিক ৫ থেকে ৬ মাস।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে কানাইপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকের পাশের ময়লার স্তূপে একদল কুকুরকে একটি রক্তমাখা বস্তু নিয়ে টানাটানি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দেহ হওয়ায় তারা কাছে গিয়ে দেখতে পান, কুকুরগুলো একটি মৃত নবজাতককে কামড়ে খাওয়ার চেষ্টা করছে।
এই নৃশংস ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে যান এবং কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে দেন। পরে তারা নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে পুলিশের ধারণা, লোকচক্ষুর আড়ালে অবৈধভাবে গর্ভপাত ঘটানোর পর কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ রাতের আঁধারে নবজাতকের মরদেহটি ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খাইরুল বাশার বলেন,”স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধ গর্ভপাত করিয়ে রাতের আঁধারে মরদেহটি এখানে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহটির দাফন সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।