দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আবারও গণআন্দোলনের ডাক দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, “প্রয়োজন হলে আবারও জুলাইয়ের মতো রাজপথ কাঁপানো আন্দোলন হবে। এখনও সময় আছে—জনগণের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন।”
আজ (শুক্রবার ২৪ এপ্রিল,২০২৬) দুপুরে ফরিদপুর শহরতলীর মুসলিম মিশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সম্মেলনে দলীয় নেতাকর্মীদের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ফরিদপুর অঞ্চলের উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আমির, নায়েবে আমির ও সেক্রেটারি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তিনি বিএনপির নাম উল্লেখ করে সরাসরি সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “আপনাদের দলের মাস্তানদের নিয়ন্ত্রণ করুন। নয়তো সাধারণ জনগণই তাদের প্রতিহত করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কিন্তু পালাবার পথ পাবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, দেশ কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি সবার বাংলাদেশ। ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে এভাবে ছুঁড়ে ফেলার অধিকার কারও নেই।
সম্প্রতি ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো থানা। অথচ ছাত্র নেতারা থানায় গিয়েও হামলার শিকার হচ্ছেন। তাদের অপরাধ কী ছিল?” তিনি চট্টগ্রামের এক ঘটনার উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তোলেন, শিবিরকে রগ কাটার অপবাদ দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে কারা রাজপথে জামায়াত-শিবির কর্মীদের রগ কাটছে, তা আজ স্পষ্ট।
সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে যা পাশ করা হচ্ছে, তার সাথে জনস্বার্থের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচনী তফসিল ও শপথ গ্রহণ নিয়ে সরকারের দ্বিচারিতা নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ফরিদপুর জেলা আমির মাওলানা বদরুদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য শামসুল ইসলাম বরাটি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আবদুত তাওয়াব এবং ইমতিয়াজউদ্দিন আহমেদ। সম্মেলনে ফরিদপুর অঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।